ঢাকা , শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কনকাপৈত ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় উপনেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা Logo স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণে বিলম্বের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন Logo দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় শীতার্তদের পাশে ছাত্রদল Logo সহকারী অধ্যাপক ডা:ফয়সল আমিন আহমেদ: আধুনিক অর্থোপেডিক ও স্পাইন চিকিৎসায় এক উজ্জ্বল নাম Logo কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম কনকাপৈত ইউনিয়ন সাজানপুরে ডাবল এলইডি টিভি কাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন Logo চৌদ্দগ্রামে “ভার্ড কামাল ডিপ্লোমা নার্সিং ইনস্টিটিউট” প্রতিষ্ঠা হলে দূর হবে বেকারত্ব Logo চৌদ্দগ্রামে বিজিবি’র অভিযানে গাঁজা সহ চিহিৃত মাদক কারবারি আটক Logo চৌদ্দগ্রামে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে জামায়াতের যুব ম্যারাথন Logo ঢাকায় তোপখানা রোডে হক সার্জিক্যালের ২য় শোরুমের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন Logo চৌদ্দগ্রাম বাজারে মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণে বিলম্বের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

  • উজ্জ্বল ভূঁইয়া
  • আপডেট সময় ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২১৪ বার পড়া হয়েছে

সরকারের প্রতিশ্রুত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন না হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দ।

আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুছ ছবুর মাতুব্বর এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব রেজাউল হক।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শেখ মোঃ নজরুল ইসলাম মাহবুব, মোঃ আব্দুর রহমান শাহজাহান, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, মোঃ মোছলেহ উদ্দিন, মোঃ আলতাব হোসেন, মোঃ আনিছুজ্জামান, মোঃ রাক্তিবল ইসলাম, মোঃ রাশেদুজ্জামান, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ গোলাম আজমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৭৮ সালের ৯ নম্বর অর্ডিন্যান্স (২) এর ধারা অনুযায়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী এনসিটিবি প্রকাশিত সিলেবাস অনুসরণ করে প্রাথমিক শিক্ষার ন্যায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো উপবৃত্তি ও মিড-ডে মিল সুবিধা পেয়ে আসলেও অজানা কারণে ২০২২ সাল থেকে এসব সুবিধা বন্ধ রয়েছে। ১৯৯৪ সালে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র ১,৫১৯টি মাদ্রাসার শিক্ষককে একই পরিপত্রে ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো এখনো বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বক্তারা আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি শাহবাগ মোড়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব পর্যায়ক্রমে সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। কিন্তু এক বছর পার হলেও সে ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি।

তারা জানান, বঞ্চনা নিরসনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৮/৯ অক্টোবর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো ও এমপিও সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫ গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে এ নীতিমালার আলোকে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার লক্ষ্যে ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ৩ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এমপিও শাখা জানায়, এমপিওভুক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও ১২ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এমপিও ফাইলে স্বাক্ষর না হওয়ায় প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ২০২৫ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, ২০১৮ সালের নীতিমালার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদন নিয়ে এমপিওভুক্ত করতে হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১০ নভেম্বর ২০২৫ মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে সকল জেলা প্রশাসকের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। এতে শিক্ষক সমাজে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দাবিসমূহ

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে— ১. মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে দ্রুত এমপিওভুক্ত তালিকা গ্যাজেট আকারে প্রকাশের দাবি জানান।

২. অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম গ্রহণের জোর দাবি জানান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

কনকাপৈত ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় উপনেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণে বিলম্বের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

আপডেট সময় ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারের প্রতিশ্রুত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন না হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দ।

আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুছ ছবুর মাতুব্বর এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব রেজাউল হক।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শেখ মোঃ নজরুল ইসলাম মাহবুব, মোঃ আব্দুর রহমান শাহজাহান, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, মোঃ মোছলেহ উদ্দিন, মোঃ আলতাব হোসেন, মোঃ আনিছুজ্জামান, মোঃ রাক্তিবল ইসলাম, মোঃ রাশেদুজ্জামান, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ গোলাম আজমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৭৮ সালের ৯ নম্বর অর্ডিন্যান্স (২) এর ধারা অনুযায়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী এনসিটিবি প্রকাশিত সিলেবাস অনুসরণ করে প্রাথমিক শিক্ষার ন্যায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো উপবৃত্তি ও মিড-ডে মিল সুবিধা পেয়ে আসলেও অজানা কারণে ২০২২ সাল থেকে এসব সুবিধা বন্ধ রয়েছে। ১৯৯৪ সালে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র ১,৫১৯টি মাদ্রাসার শিক্ষককে একই পরিপত্রে ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো এখনো বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বক্তারা আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি শাহবাগ মোড়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব পর্যায়ক্রমে সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। কিন্তু এক বছর পার হলেও সে ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি।

তারা জানান, বঞ্চনা নিরসনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৮/৯ অক্টোবর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো ও এমপিও সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫ গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে এ নীতিমালার আলোকে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার লক্ষ্যে ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ৩ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এমপিও শাখা জানায়, এমপিওভুক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও ১২ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এমপিও ফাইলে স্বাক্ষর না হওয়ায় প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ২০২৫ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, ২০১৮ সালের নীতিমালার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদন নিয়ে এমপিওভুক্ত করতে হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১০ নভেম্বর ২০২৫ মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে সকল জেলা প্রশাসকের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। এতে শিক্ষক সমাজে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দাবিসমূহ

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে— ১. মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে দ্রুত এমপিওভুক্ত তালিকা গ্যাজেট আকারে প্রকাশের দাবি জানান।

২. অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম গ্রহণের জোর দাবি জানান।